বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ |৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
কোম্পানীগঞ্জ প্রবাসী উন্নয়ন পরিষদ ইতালি শাখার কমিটি গঠন  » «   কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী আমিনুল হকের গনসংযোগ  » «   কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাংবাদিক আবিদুর রহমান  » «   সিলেট ৪ আসনে ইমরান আহমদের পক্ষে বিরামহীন প্রচারণায় ছাত্রনেতা সজিবুল ইসলাম  » «   মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, কোম্পানীগঞ্জের বিশিষ্ট মুরব্বি কালা চাঁন মিয়ার ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক  » «   রাজনগর নতুন বাজার ফ্রেন্ডস স্টাফের দিনব্যাপী তাফসীরুল কোরআন মাহফিল  » «   কোটা বহালের দাবিতে কোম্পানীগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ  » «   কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে জমিয়ত মনোনীত প্রার্থীর মতবিনিময়  » «   কোম্পানীগঞ্জে তিনদিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা শুরু  » «   কলাবাড়ী মাদ্রাসা’য় শ্রেণীকক্ষ ও ভবন সংকটে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত  » «   কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন আবুল হোসেন সভাপতি আলীম সাধারণ সম্পাদক  » «   ছাতকের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কর্তৃক নৌ চলাচলে বাঁধা প্রদান ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি  » «   ধলাই সেতু রক্ষার মানববন্ধনে মানুষের ঢল  » «   ফিরে দেখা ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৪  » «   সূর্যোদয় ফাউন্ডেশন এর ইফতার বিতরণ  » «  

ফিরে দেখা ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৪

ডেস্ক রিপোর্ট ::১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৪, স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে আমার প্রথম ক্লাশ। সাধারনত, নতুন ব্যাচের প্রথম ক্লাশ শুরু এবং শেষ হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিচিতি পর্ব, পছন্দ-অপছন্দ/শখ, একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে আলোচনা, গল্প ইত্যাদির মধ্য দিয়ে। যতারীতি আমার পালা; নিজের নাম, জেলা, উপজেলা এবং নিজের শিক্ষা- প্রতিষ্ঠানের নাম বললাম। তখন ম্যাডাম জিজ্ঞেস করল, তোমার উপজেলা থেকে এই বছর কতজন ভর্তি হয়েছে? প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম; কারণ, উত্তরটা অজানা ছিল আমার কাছে। আমি তখনও জানতাম না গত প্রায় দুই-তিন দশকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে কিনা অথচ বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার নিজস্ব ছাত্র সংঘঠন আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিছুদিন পরে জানতে পারলাম কালীবাড়ী গ্রামের সুহেল আহমেদ ইতিহাস বিভাগে আমার সাথে একই সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে (শুনে আনন্দিত হয়েছিলাম এই ভেবে যে, যাক বাবা একজন পাওয়া গেল; সুহেল এখন তুখোড় ছাত্রনেতা ও জিয়া হল ছাত্রলীগের ১ নং সাংগঠনিক সম্পাদক)। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে চার বছরের পথ চলা থেকে বন্ধুত্ব এবং ঘনিষ্ঠতা। যাইহোক, ঐদিন বাসায় এসে কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষার ইতিহাস জানার জন্য গুগল মামার সাহায্য নেই। কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষার ইতিহাস সম্পর্কে গুগল মামা যা তথ্য দিয়েছিল তা দেখে আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল। আবিস্কার করেছিলাম, শিক্ষার দিক দিয়ে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ বাংলাদেশের উপজেলা সমূহের পিছনের সারির একটি। আমার জানামতে অন্যান্য সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল আছে হাতেগুনা কয়েকজন। তখন মাথায় চিন্তার ভাঁজ পরেছিল, শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম এই দুর্দশার হেতু কি? পরবর্তীতে সুহেলের সাথে আলোচনা করে কিছু কারণ বের করেছিলাম এবং এগুলো হল- ১) সহজে অল্প বয়সে পাথর কোয়ারিতে আয় করার সুযোগ (অনেকটা শিশু শ্রম) ২) মা-বাবার নিরক্ষরতা ও সচেতনতার অভাব ৩) মাদকের ছোবল ৪) স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের ম্যানেজিং কমিঠির নির্লিপ্ততা ও দলাললি ৫) মানসম্মত, বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজী শিক্ষকের অভাব ৬) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার। শিক্ষা সম্পর্কে সচেতনা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে করে আর আমাদের কোম্পানীগঞ্জে “মিডিয়া ইজ আ ফান্”। প্রবাদ আছে “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড” এবং এই প্রবাদটি স্বতঃসিদ্ধভাবে প্রমাণিত। কোম্পানীগঞ্জের মানুষ অনেকটা মেরুদণ্ডহীনতায় ভুগছে তা আমরা বলতেই পারি। বিশ্বায়নের যুগে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এই মেরুদণ্ডহীনতা দূর করতে দরকার সবার সহযোগিতায় একটি ফলপ্রসূ “শিক্ষা আন্দোলন”। এই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা দূর করতে চাই উপরোক্ত বাধা সমূহ, যেগুলোর কারণে কোম্পানীগঞ্জের শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি থমকে আছে। আমরা দেখতে চাই কোম্পানিগঞ্জের শিক্ষার হার বাংলাদেশের উপরের সারির একটি এবং সবদিক থেকে কোম্পানীগঞ্জ একটি শিক্ষিত ও সু-নাগরিকের উপজেলা। আমরা আশা করতেই পারি, অদূর ভবিষ্যতে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে এবং বিশ্বায়নের সাথে তাল মিলিয়ে অত্র উপজেলার উর্বর মস্তিষ্কের মানুষ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিবে। তাহলে আর আমাদেরকে উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞেস করলে, প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকতে হবেনা।
লেখক
মোঃ জহির উদ্দিন
এম এস এস, ২য় সেমিস্টার
লোক প্রশাসন বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য