শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ |২৬ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
‘আব্দুল হক ‘স্যারের মৃত্যুতে-প্রতিষ্টানের সভাপতির শোক প্রকাশ  » «   এসএসসিতে জিপিএ প্লাস পেয়েছে সাদিয়া আহমেদ  » «   ‘কাউন্সিলর আজাদের আরোগ্য কামনা করে কোম্পানীগঞ্জ ছাত্রলীগের দোয়া মাহফিল’  » «   “গণ-মানুষের পরম বন্ধু এড.নাসির উদ্দিন খান”  » «   কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের জরুরি সভা ও ঈদ পুনর্মিলনী  » «   “দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-বিসর্জন পরিবারের সভাপতি জামাল উদ্দিন “  » «   পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন -কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক-সজীবুল ইসলাম জয়”  » «   “কোম্পানীগঞ্জ সহ বিশ্ববাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-হাজী আমিনুল হক’  » «   “তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ঈদ সামগ্রী বিতরণ”  » «   শুভ জন্মদিন তরুণ সাংবাদিক কবির আহমেদ  » «   সাবালিকা…….  » «   কৃষকের পাশে ছাত্রলীগের শাহরিয়ার আলম সামাদ”  » «   আসন্ন পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ভাটরাই প্রজন্ম ক্লাবের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ  » «   অল্প সময়ে কোম্পানীগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন ওসি সজল কুমার কানু  » «   কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ  » «  

গৌরব ও সমৃদ্ধিতে ৯৫ বছরে পদার্পন

900000ডেস্ক রিপোর্ট : ৯৪বছর ধরে বাংলা ভুখন্ডের মানুষের আলোর দিশীর হয়ে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ। ১৯২১ সালে যাত্রা শুরু করে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি।

এ দিবসকে সামনে রেখে নানা বর্ণাঢ্য আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। গৌরবের আলোকছটায় বর্ণিল সাজে রাতে অপরুপ হয়ে ওঠে জ্ঞানের এ সুতিকাগার।

আন্দোলন সংগ্রাম থেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সামাজিক প্রেক্ষাপট রচনা থেকে মননরে বিকাশ সবকিছুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল অবদান। শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গে পরিণত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নিঃসন্দেহে দেশের প্রতিটি উন্নয়নের পরতে পরতে রয়েছে তার ছোঁয়া।

গৌরব, ঐতিহ্য আর সমৃদ্ধির এই সুতিকাগারের শুরু ১৯২১ সালের ১ জুলাই ছোট্ট পরিসরে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এবারের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘উচ্চশিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ব্রিটিশদের শোষণ, পাকিস্তানীদের নির্যাতনের আর তারপর দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা সমৃদ্ধ ইতিহাস। সুদীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। চলার পথে হয়তো দুর্বার গতিতে চলতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছে, কিন্তু পরনির্ভরশীল হতে হয়নি কখনো। কর্তৃত্ব চালিয়েছে দেশের সীমানা ভেদ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। মাতৃভাষার জন্য লড়াই নিজেদের অধিকার আদায়ের ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আর মহানএকাত্তরের প্রতিটি পরতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো আলোর দিশারী। নেতৃত্বের অগ্রভাগে থেকে দেশকে দিয়েছে কাঙ্খিত মুক্তি।

স্বাধীনতার পরও দেশের সংকটকালে পথ দেখিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গণতন্ত্র, উন্নয়ন আর শুভবোধ জাগ্রত করার লড়াইয়ে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে সব সময়। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা জাতি গঠনে ব্যায়িত হয়েছে সবটা সময়।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১২ সালে ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নির্দেশে গঠিত হয় ‘নাথান কমিটি’। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ৬০০ একর জমি নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। যদিও এখন এর আয়তন দাঁড়িয়েছে ২৬০ একরে। ব্রিটিশরা অক্সফোর্ডের আদলে এর পঠন-পাঠন ও শিক্ষাদান কার্যক্রম পদ্ধতি তৈরি করেছিল বলেই এটিকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিদ্যাচর্চার খ্যাতিতে এই উপমহাদেশের একটি শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। শিক্ষাদান, বিদ্যাচর্চা, শিক্ষকের গবেষণা ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি শুধু এ উপমহাদেশে নয়, অর্জনের প্রভাব পড়েছিল পূর্ব বাংলা পেরিয়ে ইউরোপ, আমেরিকাসহ নানা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে তৈরি হয়েছিলো এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ব্যবস্থা। উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন, পাঠ নেবেন ও জ্ঞানার্জনের নানা প্রয়োজনে লাইব্রেরিসহ শিক্ষকের সাহচর্য লাভ করবেন।

প্রতিষ্ঠাকালীন তিনটি অনুষদ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা করলেও বর্তমানে এসে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে। ১২টি বিভাগ থেকে এখন ৭৪টি বিভাগ চালু রয়েছে। এছাড়া রয়েছে, ১২টি ইনস্টিটিউট, ৪৪টি গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র। সূচনাকালে এর আবাসিক হল তিনটি থাকলেও বর্তমানে ৫টি ছাত্রী হলসহ এর সর্বমোট হল সংখ্যা ১৯টি। প্রতনিয়ত এখনও বাড়ছে এর কলেবর।

দিবসটিকে সামনে রেখে দেয়া এক শুভেচ্ছাবাণীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, ‘জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও জ্ঞানালোক সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মহান ব্রত নিয়ে শতকের পথে এগিয়ে চলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার অবারিত সুযোগ, মেধাচর্চার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল তৈরিতে সবসময় আপন দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালিত হয় এখানে। নির্দ্বিধায় বলা যায় কেবলমাত্র উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’

আপনার মতামত প্রদান করুন

টি মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ